একনজরে জেনে নিন কেমন ছিল অ্যাসিরীয় সভ্যতার ইতিহাস
অ্যাসিরীয়ান সভ্যতার:-
অ্যাসিরীয়া ছিল প্রাচীন নিকট প্রাচ্যের একটি প্রধান সেমিটিক রাজত্ব, সময়কাল অনুযায়ী খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ অব্দ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০৫ অব্দ পর্যন্ত এর ভৌগোলিক অবস্থানের বদল হয়েছে, এবং এই সভ্যতা স্থায়ী হয়েছিল প্রারম্ভিক ব্রোঞ্জ যুগ থেকে শেষ লৌহ যুগ পর্যন্ত। উত্তর মেসোপটেমিয়ায় টাইগ্রিস নদীর তীরে কেন্দ্রীভূত অসিরীয়া বেশ কয়েকবার শক্তিশালী সাম্রাজ্য হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
প্রথম শামশি আদাদের রাজত্বকালে নিনেভা সরাসরি অ্যাসিরীয় শাসনের অধীনে চলে আসে। নিনেভা সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছিল নব্য-অ্যাসিরীয় যুগে, সম্রাট সেনাহেরিবের (খ্রিষ্টপূর্ব ৭০৫ অব্দ – খ্রিষ্টপূর্ব ৬৮১ অব্দ) আমলে। অ্যাসিরীয় সম্রাটদের মধ্যে তাকে অন্যতম জনপ্রিয় শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়। অভ্যন্তরীণ প্রাচুর্য ও গুরুত্বের ভিত্তিতে তিনি নিনেভাকে নব্য-অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের রাজধানীর হিসেবে ঘোষণা করেন। মানচিত্রে অ্যাসিরীয় সভ্যতার বিস্তৃতি
বাইবেলে নিনেভা শহরকে অভিহিত করা হয়েছে সম্পূর্ণ পাপে কলুষিত এক শহর হিসেবে। কোরান ও বাইবেল অনুসারে, এই শহরের নবী ছিলেন হযরত ইউনুস, যাকে ‘জোনাহ‘ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইহুদীদের ইতিহাসে সিনাহেরিবের নাম বেশ ভালোভাবেই চর্চিত ছিল, কারণ তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৬৮৯ অব্দে ব্যাবিলনের নগরসভ্যতা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেন। ইহুদী ও ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, হযরত ইউনুস নিনেভা শহরের বাসিন্দাদের কাছে ধর্মপ্রচার করতে আসলে, তার প্রতি কেউই তেমন আগ্রহ দেখায়নি। এরপর তিনি নিকটস্থ নদী পার হয়ে সেই এলাকা ত্যাগ করে চলে যান। নিনেভা শহরের ধ্বংসাবশেষে নির্মাণ করা হয়েছিল হযরত ইউনুস এর মসজিদ, যার বর্তমান সময়ে যার নাম ‘আল-নবি ইউনুস মসজিদ'। এখানেই কবর দেওয়া হয়েছিল হযরত ইউনুস কে, এমনটাই ধারণা করা হয়।
মধ্য অ্যাসিরিয়ান যুগে কোন স্থায়ী সেনাবাহিনী ছিল না। পরিবর্তে, সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত বেশিরভাগ সৈন্যকে কেবলমাত্র যখন তাদের প্রয়োজন ছিল, যেমন বেসামরিক প্রকল্পের জন্য বা প্রচারণার সময় সংঘবদ্ধ করা হয়েছিল। আইনগত বাধ্যবাধকতার ভিত্তিতে প্রচুর পরিমাণে সৈন্য নিয়োগ এবং আপেক্ষিকভাবে দ্রুত বাহিনী সংগঠিত করা হতো।
পদাতিক সৈন্যদেরকে সা বু সা কাক্কে (অস্ত্র সৈন্যদল) এবং সা বুসা আরতে (ঢাল বহনকারী সৈন্যদল)-এ বিভক্ত ছিল। এছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্রে রথ ব্যবহারের বিশেষ কৌশলের প্রমাণ পাওয়া যায়। শিলালিপি গুলি থেকে এটাও জানা যায়, কিছু বিশেষ কারণে ভাড়াটে সৈন্যদের দলে নিয়োগ করা হতো।
সামরিক কর্মকর্তা এবং জেনারেলদের মধ্যে সুক্কাল্লু, সুক্কাল্লু রবিউ, তারতেনু এবং নাগিরু নামক পদে নিযুক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হতো। জেনারেলদের সাধারণত রাজকীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদে তত্ত্বাবধানে নিয়োগ করা হত। কিছু নিযুক্ত সেনাপতি ক্যাপ্টেন উপাধি ব্যবহার করতেন।
আল-নবি ইউনুস মসজিদ: যেখানে কবর দেওয়া হয়েছিল হযরত ইউনুস-কে
ভাষা এবং নৃতত্ত্বে সেমিটিক শব্দটি ব্যবহৃত হয় যা সর্বপ্রথম মধ্য প্রাচ্যের ভাষা শ্রেণীকে বোঝাতে ব্যবহার হয়েছিল। এই শ্রেণীর ভাষাগুলোর মধ্যে রয়েছে আক্কাডিয়ান, এরামাইক, হিব্রু, আরবী, গি'জ, মাল্টীয়, কানানাইট/ফোনেসিয়ান, এমোরাইট, এবলাইট, উগারিটিক, সুতিয়ান, চেলডিয়ান, মান্ডাইক, আহলামু, আমহারিক, টিগরি এবং টিগরিনয়া প্রভৃতি ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাচীন ও আধুনিক ভাষাগুলো। ভাষা বিষয়ক শিক্ষা সাংস্কৃতিক শিক্ষার সাথে ওতোপ্রোতভবে জড়িত তাই এই সেমেটিক শব্দটি সংস্কৃতি ও জাতিগত বৈশিষ্ট্য বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।
এই যুগে বিখ্যাত রাজপ্রাসাদ নির্মাণ এবং আশুর মন্দির সম্প্রসারণ করা হয়। তবে এই সাম্রাজ্য শেষ সীমায় উপনীত হয় যখন ব্যাবিলনের আরোমাইট রাজা হামুরাবি শহরটি দখল করে তার স্বল্পস্থায়ী সাম্রাজ্যে যুক্ত করে। এর অল্প কিছুদিন পরে স্থানীয় রাজা আদাসি ১৭২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আশুর এবং আশারিয়া আক্রমণ করে থেকে ব্যাবিলনীয় এবং আমোরীয়দের বিতাড়িত করেন।
স্থাপত্য শিল্পে অ্যাসিরীয়রা বেশ নিপুণ ছিল। তারা পাথর কেটে ঘরবাড়ি ও প্রাসাদ স্থাপন করত। এছাড়া চুনাপাথর, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি দিয়েও তারা ভাষ্কর্য নির্মাণ করত।
ইরাকের প্রাচীন অ্যাসিরীয়ান শহর
দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য অ্যাসিরীয়রা চন্দ্র দেবতা সিন (নান্না) এবং সূর্যদেবতা শামসের মন্দির নির্মাণ করে। ১৫ শতকের শেষভাগে শহরটি মিটান্নির রাজা শাউশতাতার দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয় এবং তিনি মন্দিরের স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত দরজাগুলি তার রাজধানী ওয়াশুকানিতে লুঠ করে নিয়ে যান।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অ্যাসিরীয়দের বিশেষ ভূমিকা ছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল, গাণিতিক বিষয়বস্তু, জ্যামিতি, সাহিত্য ইত্যাদিতে তারা বিশেষভাবে উন্নতিলাভ করে। পৃথিবীকে সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করে। তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০°-তে ভাগ করে।
চিকিৎাশাস্ত্রে তাদের বিশেষ কৃতিত্ব ছিল। ৫০০-এর বেশি ভেষজ ও খনিজ ঔষধির তালিকা ও গুনাগুণ নির্ণয় করেছিল তারা। সম্রাট আসুরবানিপাল রাজধানী নিপ্পুরে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যাকে এশিয়ায় প্রথম গ্রন্থাগার হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এখানে ২২০০ টির বেশি মাটির চাকতির বই ছিল, যেগুলির অধিকাংশই বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।
আসুরবানিপাল নির্মিত গ্রন্থাগার
চিত্রঋণ: ইন্টারনেট
ভালো
ReplyDeleteDurdanto
ReplyDeleteValo
ReplyDeleteBhalo ❤
ReplyDeleteInteresting ❤️
ReplyDeleteInformative ❤️
ReplyDeleteখুব ভালো লাগলো পড়ে ❤️
ReplyDeleteBahh bhalo
ReplyDeleteWahh..
ReplyDeleteVery informative ❣️
ReplyDeleteOoooo
ReplyDeleteDarun😲
ReplyDeleteDarun
ReplyDeleteDarun ♥️
ReplyDelete