একনজরে জেনে নিন কেমন ছিল গ্রিক সভ্যতার ইতিহাস
গ্রিস হলো ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র যা বলকান উপদ্বীপের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এই দেশ পশ্চিমা বিশ্বের জ্ঞান বিজ্ঞানের সূতিকাগার এবং গণতন্ত্রের জন্মদায়ক স্থান হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। ভৌগােলিক ও সাংস্কৃতিক কারণে গ্রিক সভ্যতার সাথে দুইটি সংস্কৃতি: একটি ‘হেলেনিক' (Hellenic) ও অপরটি 'হেলেনিষ্টিক' (Hellenistic)-এর নাম জড়িয়ে আছে। গ্রিসের প্রধান শহর এথেন্সে প্রথম থেকেই যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তাকে বলা হয় হেলেনিক সংস্কৃতি। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৭ অব্দ পর্যন্ত হেলেনিক সভ্যতার ধারা বজায় ছিল। এই সময় মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক সংস্কৃতি ও অগ্রিক (গ্রিক নয়) সংস্কৃতির সংমিশ্রণে এক নতুন সংস্কৃতির উৎপত্তি হয়, ইতিহাসে যে সংস্কৃতি পরিচিতি লাভ করে হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি নামে।
মানচিত্রে গ্রিক সভ্যতার অবস্থান
গ্রিসের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোর দ্বারা সংঘটিত হয়। সরকার-প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রের পরিচালনার ক্ষমতা তার উপরই নির্ভরশীল। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার এবং আইনসভা উভয়েরই থাকে। গ্রিসের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শিল্প হলো পর্যটন এবং বাণিজ্য। মার্চেন্ট শিপিংয়ে গ্রিস বিশ্বের বৃহত্তম বণিক সামুদ্রিক দেশ।
প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলি গণতন্ত্র বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায়নি, দ্রুতই কর্তৃত্ববাদী শাসকের উত্থানের ফলে এসেম্বলি গুলো বিলুপ্ত হয়েছে। এথেন্সে গণতন্ত্রের চর্চার সূচনা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৫০৮ অব্দে এবং এই গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিলুপ্তি ঘটে খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২ অব্দে মেসিডনের কাছে এথেন্সের পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে।
গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলো এসেম্বলির দ্বারা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারত। প্রতি দশ দিন অন্তর এসেম্বলি বসতো। ২০ বছরের উর্ধ্বে সকল এথেন্সিয়ান সমান নাগরিক মর্যাদা ভোগ করতেন, এসেম্বলিতে ছিল প্রাপ্তবয়স্ক সকল পুরুষের ভোটদানের অধিকার থাকলেও নারীদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের কোনো সুযোগ ছিল না, অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত থাকত দাসেরাও। এথেন্সের মতো রাজনৈতিক কাঠামো ছিল আরো অনেক নগররাষ্ট্রের, সেসব রাষ্ট্রে চর্চার বিষয় ছিল মূলত প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র। প্রায় সব নগররাষ্ট্রের এসেম্বলিই ছিল নারীহীন ‘জেন্টলম্যানস ক্লাবের’ মতো।
তবে, কয়েক শতাব্দীর মধ্যেই নগররাষ্ট্রের যুগের সমাপ্তি ঘটে, শুরু হয় সাম্রাজ্যবাদী যুগ। পৃথিবীজুড়ে গড়ে উঠতে থাকে বিশাল সাম্রাজ্য, এরপর পতনও ঘটেছে এইসকল সাম্রাজ্যের। গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের যুগে।
নগররাষ্ট্রের এসেম্বলি
১৯৮২ সালে গ্রীস ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের সদস্য হয়ে ওঠে। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে ইউরো দেশটির সরকারী মুদ্রায় পরিণত হয়, ৩৪০.৭৫ ড্রাচমে ইউরোর বিনিময় হারে ড্রচমা প্রতিস্থাপিত হয়।
বিভিন্ন দেশের শিল্প সংস্কৃতির উপর প্রাচীন গ্রিসের শৈল্পিক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। পশ্চিমের রোমান সাম্রাজ্যের শিল্পের অধিকাংশই গ্রিসের নমুনার অনুকরণে বা নমুনা থেকে গৃহীত। পূর্বের মধ্য এশিয়া, গ্রিক এবং ভারতীয় সংস্কৃতি তৈরী করেছিল গ্রিকো-বুদ্ধিস্ট শিল্প, যা জাপান পর্যন্ত বিস্তৃত। এগুলোর সূচনা হয়েছিল ম্যাসিডনের রাজা আলেক্সান্ডারের বিজয়াভিযানের মধ্য দিয়ে। ইউরোপে রেঁনেসার যুগে ইউরোপিয় শিল্পীরা অনুপ্রাণিত হয়েছিল গ্রিক শিল্প এবং শৈল্পিক ভাবনা দ্বারা। ঊনবিংশ শতাব্দির সনাতনি ঐতিহ্য যেগুলো পশ্চিমা বিশ্বে আবিস্কৃত হয় সেগুলো গ্রিসদের থেকে বহুলভাবে প্রাপ্ত।
ড্রচমা
প্রাচীন গ্রীক শিল্প মানবদেহের প্রাকৃতিক কিন্তু আদর্শিক চিত্রের বিকাশের জন্য অন্যান্য সংস্কৃতির থেকে ভিন্ন স্বাদের, যেখানে মূলত নগ্ন পুরুষের চিত্রই ছিল উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় ৭৫০ এবং ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে শৈলীগত বিকাশের হার প্রাচীন মান অনুসারে উল্লেখযোগ্য ছিল এবং টিকে থাকা কাজগুলিতে ভাস্কর্যের মধ্যে সবচেয়ে ভাল লক্ষণীয় বিষয়। পেইন্টিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন ছিল, যেগুলোকে মূলত পুনর্গঠন করতে হয়। আঁকা মৃৎশিল্পে স্বতন্ত্র ক্ষেত্রটি অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বিজ্ঞানের দিক থেকে তারা অনেকাংশেই এগিয়ে ছিল। তারাই প্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেন। এছাড়া তারাই প্রথম পৃথিবীকে গ্রহের আখ্যা দেয়।
গ্রিকরা বহুদেবতায় বিশ্বাসী ছিল। গ্রিকদের প্রধান দেবতা ছিলেন জিউস। আফ্রেডাইট ছিলেন ভালবাসা, রােমাঞ্চ এবং সৌন্দর্যের দেবী। সূর্য, আলাে, চিকিৎসাবিদ্যা এবং সঙ্গীতের দেবতা অ্যাপোলো। যুদ্ধদেবতা ছিলেন এরিস এবং আরটেমিস ছিলেন শিকার, বন, উর্বরতা এবং চাঁদের দেবী। এছাড়াও ডিমিটার, হারমেস, হেরা ইত্যাদি ছিল গ্রিসের উল্লেখযোগ্য দেবদেবী।
উত্তর গ্রিসের অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায় দেবতাদের বাস বলেই গ্রিকবাসীরা বিশ্বাস করত।
এথেনাকে উৎসর্গীকৃত মন্দির (পার্থেনন)
চিত্রঋণ: ইন্টারনেট
Excellent 💞
ReplyDeleteValo
ReplyDeleteNice✨✨
ReplyDeleteInformative ❣️
ReplyDeleteNice 👍
ReplyDeleteNice 🙂
ReplyDeleteNice ❤️
ReplyDelete👍
ReplyDeleteBesh bhalo 💖
ReplyDeleteKhub bhalo laglo
ReplyDeleteInformative ❤️
ReplyDeleteKhub bhalo hoiche ❤🩹
ReplyDeleteDarun!!😁😁
ReplyDelete